সাগরে খুঁটি- বয়া উচ্ছেদ নোটিশে প্রায় চার লাখ মৎস্যজীবির মাথায় হাত

0
49
 নিউজ ডেস্ক: |  শুক্রবার, এপ্রিল ২, ২০২১ |  ৮:২৫অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সন্দ্বীপ চ্যানেলে জেলেদের জাল বসানোর খুটি স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা, বয়া উচ্ছেদের সরকারী সিদ্ধান্তের নেটিশে মাথায় হাত প্রায় চার লাখ মৎস্যজীবির।

২ এপ্রিল শুক্রবার এর প্রতিবাদে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে উত্তর চট্টগ্রামের শত শত জেলে।

উত্তর চট্টলা উপকূলীয় মৎসজীবি জলদাস সমবায় কল্যান ফেডারেশনের ব্যানারে সীতাকুণ্ড উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অনুষ্ঠিত এ মানব বন্ধনকালে জেলেরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাগরে মাছ ধরাই আমাদের একমাত্র পেশা। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই পেশা আঁকড়ে ধরে আমরা জীবিকা নির্বাহ করছি।

সম্প্রতি আমাদেরকে কর্তৃপক্ষ একটি নোটিশ দিয়ে জানিয়েছে যে, সাগরে মাছ ধরার সময় কোনরুপ খুঁটি স্থাপন করা যাবে না এবং জালে বয়া দিলে তা উচ্ছেদ করা হবে। সরকারী এ নির্দেশনা স্পষ্টতই মৎস্যজীবিদের পেশা ধংসের চক্রান্ত। কারণ, মাছ ধরার জাল পাততে হলে অবশ্যই খুঁটি স্থাপন করতে হয়। এছাড়া জাল ফেলতে গেলে বয়াও আবশ্যক। খুঁটি ও বয়া ছাড়া সাগরে মাছ শিকার করাই অসম্ভব। তারা আগে খুঁটির উপর নির্ভর করে জাল পাততেন, যখন সাগরে মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা আসত তখন জাল তুলে নিলেও খুঁটি থেকে যেতো। কিন্তু গত ১৬ মার্চ এক নোটিশে জানানো হয় সব খুঁটি তুলে ফেলতে হবে। না হলে ৫ এপ্রিল সরকারীভাবে সেগুলো তুলে ফেলা হবে।

এটি মেনে কখনোই মাছ শিকার করা যাবে না। এ কারণে সরকারী এ নোটিশ মানতে গেলে তাদের সংগঠনের আওতাধীন চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে সীতাকুণ্ডের সৈয়দপুর এলাকার ৭৫ হাজার পরিবারের ৩ লাখ ৭৫হাজার মৎস্যজীবির জীবিকা ধংস হয়ে যাবে। তাই এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার দাবী জানান জেলে নেতৃবৃন্দ।

এছাড়া মানব বন্ধন শেষে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিল্টন রায়কে স্মারক লিপিও প্রদান করেন তারা।

এসময় উত্তর চট্টলা উপকূলীয় মৎসজীবি জলদাস সমবায় কল্যান ফেডারেশনের সভাপতি লিটন জলদাশ, উপেন্দ্র জলদাশ, হরিলাল জলদাশ, বাদল জলদাশ, দুলাল জলদাশসহ বিভিন্ন জেলে নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন । জেলেদের মানব বন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদানের কথা স্বীকার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিল্টন রায় বলেন, আমি তাদের যে দাবী তা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানাব। তারাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here