সীতাকুণ্ডে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে আগুন: অল্পের জন্য রক্ষা পেল ইকোপার্ক, চন্দ্রনাথ মন্দির, বিমান বাহিনীর টাওয়ার

0
91
 নিজস্ব প্রতিবেদক |  শনিবার, মার্চ ২০, ২০২১ |  ৪:০৩অপরাহ্ণ

সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে ইকোপার্কে ও চন্দ্রনাথ মন্দির, বিমান টাওয়ারসহ বিলুপ্তি প্রজাতির উদ্ভিদরাজি ও প্রাণীবৈচিত্র্য।

সীতাকুণ্ডে স্থানীয় বেগুন চাষীদের দেয়া আগুন এই অগ্নিকাণ্ডের সুত্রপাত হতে পারে বলে বিমান বাহিনী ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে।

সুত্র জানিয়েছে, কিছু লোক পাহাড়ে বিভিন্ন সবজি চাষ করে থাকে। এসব চাষ করতে গিয়ে ব্যাপক বনাঞ্চল পরিষ্কার করা তাদের জন্য কষ্ট হয়। তাই তারা সুযোগ বুঝে আগুন ধরিয়ে দেয়। এটি স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘদিনের একটি চর্চা বলে জানা গেছে। নির্দিষ্ট সময়ে প্রতি বছর এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

থানায় দায়েরকৃত জিডি ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকাল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার মুরাদপুর ফকিরহাট এলাকায় অবস্থিত বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের ইকোপার্ক টু চন্দ্রনাথ মন্দির রাস্তা সংলগ্ন ২০০৬-০৭ সনে সৃজিত ৪০ হেক্টর দীর্ঘ মেয়াদী বাগান ও ২০০৭-০৮ইং তে সৃজিত ৪০ হেক্টর দীর্ঘমেয়াদী বাগানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিস প্রায় ৫ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে  আগুন নিয়ন্ত্রনে আনার আগেই এসব ঘটনার মধ্যে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অগ্নিকাণ্ডে ১০ লাখ টাকার ক্ষতির কথা উল্লেখ করে সাধারণ ডায়েরি করেছেন সংশ্লিষ্ট রেঞ্জার।

এসময় ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা ও ইকোপার্কের কর্মকর্তা কর্মচারীরা সেখানে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ করেন। এ বিষয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আলমগীর বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এতে রোপিত গাছের চারা, পশু খাদ্য ও জীব বৈচিত্র্যোর আনুমানিক ১০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিস অফিসের স্টশন অফিসার নুরুল আলম দুলাল জানান, ওই দিন বিকালে বোটানিক্যাল গার্ডেনের বিমান টাওয়ার সংলগ্ন এলাকায় এবং রাত আনুমানিক ১০টার দিকে পাহাড় চূড়ায় অবস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম তীর্থ চন্দ্রনাথ ধামের চন্দ্রনাথ মন্দিরের পাশেও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দুটি ঘটনাতেই খবর পেয়ে তারা পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ করেছেন।
নুরুল আলম দুলাল স্থানীয় বিমান বাহিনীর দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের বরাদ দিয়ে জানান, এখানে স্থানীয় কিছু লোক পাহাড়ে বিভিন্ন সবজি চাষ করে থাকে। বিশেষ করে বেগুন চাষি। এসব চাষ করতে গিয়ে ব্যাপক বনাঞ্চল পরিষ্কার করা তাদের জন্য কষ্ট হয়। তাই তারা সুযোগ বুঝে আগুন ধরিয়ে দেয়। এটি স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘদিনের একটি চর্চা বলেও জানা গেছে।

তবে কেউ কোনো হীন উদ্দেশ্যে এই আগুন লাগিয়েছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই দুটি আগুনে একদিকে চন্দ্রনাথ মন্দির ও অন্যদিকে বিমান টাওয়ারের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। এসবের পেছনে যাদেরই হাত থাকুক তা বের করতে না পারলে তারা আরো ঘটনা ঘটাতেই পারে।

সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) সুমন বণিক বলেন, বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় থানায় একটি জিডি হয়েছে।

##

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here