ইকো-ট্যুরিজমে নতুন মাত্রা যোগ করবে শুভ অধিকারীর ‘পাবিখা’ ‘পাবিটা’ সার্ভিস

0
922
 হাকিম মোল্লা |  বুধবার, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২০ |  ৬:১৮অপরাহ্ণ
তরুণ উদ্যোক্তা শুভ অধিকারী
তরুণ উদ্যোক্তা শুভ অধিকারী

‘‘চট্টগ্রামের মিরসরাই ও সীতাকুণ্ডে ইকো-ট্যুরিজম শিল্পের উন্নয়ন’’ শীর্ষক ভ্যালু চেইন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় যুক্ত হচ্ছে শুভ অধিকারীর ‘পাবিখা’ ‘পাবিটা’ সার্ভিস। যা পরিবেশবান্ধব পর্যটন শিল্প এলাকায় ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে নতুন মাত্রা যোগ করবে। একই সঙ্গে ফুড এন্ড স্ন্যাকস সার্ভিস প্রোফাইডার হিসেবে পর্যটকদের নিরাপদ খাবার পরিবেশন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন মেধাবি এই তরুণ উদ্যোক্তা।

ব্যবসা পছন্দের কারণ: সীতাকুণ্ড গার্লস কলেজের ভিতরে বাবা সুশীল অধিকারী প্রথম ফুড এন্ড স্ন্যাকস সার্ভিস চালু করেন। পড়াশুনার পাশাপাশি বাবাকে সহযোগিতা করতে থাকেন শুভ। এক পর্যায়ে বাবার কাছ থেকেই তালিম নেন বিভিন্ন খাবার তৈরি করতে। একই সময় প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রেজুয়েশন শেষ করেন। পড়াশুনার পাশাপাশি খাবার তৈরি করার চর্চা করতে থাকেন। অধ্যাবসায়ের ফলে এখন ২০টিরও বেশি খাবার তৈরি তার দখলে রয়েছে। তার খাবারের টেস্ট অন্য কারোও সঙ্গে মিলে না।

অভিজ্ঞতার অনুরণ ছড়িয়ে এখন তিনি কলেজ রোডস্থ গদাধর অধিকারী সড়কের পাশে নিজস্ব জায়গায় এই ফুড এন্ড স্ল্যাকস সার্ভিস চালু করেছেন। ৭০ হাজার টাকায় ব্যবসায় যাত্রা শুরু। এক মাসের ব্যবধানে এখন তার দোকানে এক লাখ টাকা পুঁজি রয়েছে।

সকালে স্কুল শুরু ও স্কুলের বিরতি ও স্কুল ছুটির সময়টাকে প্রাধান্য দিয়ে দোকানের ফুড সেল্ফ সাজিয়ে দেন নানা খাবারে সম্ভারে। ফুড এন্ড স্ন্যাকস সার্ভিসটির নাম রেখেছেন ‘সাই বাবা ফাস্ট ফুড’। এখানে মালাই চা ১৫ টাকা, লিকার চা ৫ টাকা, দুধ চা ৬ টাকা, সিঙ্গারা-সমুচা ৬ টাকা, ভেজিটেবল পাকোরা ৫ টাকা, চিকেন পাকোরা ৮টাকা, সেন্ডুইচ ১৫টাকা, ব্রেড চপ ১০টাকা, ডিম চপ ১০টাকা, চটপটি ২০, ফুচকা ৩০টাকা, নুডুলস ২০টাকা, গরুর দুধের কফি ২০টাকা, চানাবুট ১০টাকা। এসব খাবার তিনি নিজেই ঘরে বসে তৈরি করেন। সীতাকুুুুণ্ডে বেড়াতে আসা পর্যটকরা তার দোকানে এই ফুড গুলো এনজয় করেন প্রায় সময়। এমনকি ট্যুর অপারেটররা তার সাই বাবা ফাস্ট ফুড নামে ফেসবুক পেজের মাধ্যমে অগ্রিম খাবারের অর্ডার দিয়ে থাকেন। প্রতিদিন তিনি এই সার্ভিস থেকে ৮০০-১০০০ টাকা আয় করেন ।

ইপসা ইকো-ট্যুরিজম ওয়ার্কসপে উপস্থিত থেকে ইকো-ট্যুরিজম বিষয়ে বৈচিত্র অভিজ্ঞতা লাভ করেন। তার স্বপ্ন গুলিয়াখালী বিচ ও মহামায়ায় ‘পাবিখা’ ও পাবিটা’ নামে একটি সার্ভিস চালু করবেন।

সার্ভিসটির ব্যবসায় বিশ্লেষণ করতে গিয়ে শুভ অধিকারী বলেন, প্রতি কেজি প্লাস্টিকের বিনিময়ে একজনের খাবার অথবা নাস্তার ব্যবস্থা থাকবে। সার্ভিসটির নাম দিয়েছেন প্লাস্টিকের বিনিময়ে খাদ্য ‘পাবিখা’। সেই খাবারে ভাত,সবজি, ডাল, মাছ, মাংস থাকতে পারে। এভাবে যতকেজি প্লাস্টিক দিবেন তত জনের খাবার পাবেন। আরেকটি সার্ভিস হচ্ছে ‘পাবিটা’। এর অর্থ প্লাস্টিকের বিনিময়ে টাকা। কেজি প্রতি প্লাস্টিকের বিনিময়ে টাকা দেওয়া হবে। যে যত বেশি প্লাস্টিক দিবেন ততবেশি টাকা পাবেন। আপাদত গুলিয়াখালী বিচ ও মহামায়ায় এই সার্ভিস চালুর ব্যাপারে একটি কমিটি গঠণ করা হবে। কমিটির সদস্যরা পর্যটনস্পট গুলো ঘুরে পণ্যের বিক্রয়মূল্য ও ক্রয়মূল্য বিবেচনা করে প্লাস্টিকের মূল্য নির্ধারণ করবেন। এ ব্যাপারে ইপসা ইকো-ট্যুরিজম প্রজেক্টের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট কর্মকর্তারা সবসময় যোগাযোগ করে কারিগরি সহযোগিতা করে যাচ্ছেন বলে জানান শুভ অধিকারী (০১৮৪০৭১৭৩১২)।

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here